জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে জোসেফের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,স্মরণ সভা ও খাবার বিতরন
মোঃ পন্ডিত হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,স্মরণ সভা, মিলাদ, দোয়া এবং দুস্থ ও সাধারণ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
শনিবার ( ৩০ মে) শহরের টানবাজার এলাকায় পদ্মা সিটি প্লাজায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও মহানগর যুবদল নেতা কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফের সভাপতিত্বে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাঃগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ।
প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তার জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আমরা এইদিনে প্রতিজ্ঞা করি, সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ ও লুটতরাজ মুক্ত একটি উন্নত,প্রগতিশীল নারায়নগঞ্জ গড়তে আমরা সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
তিনি আরো বলেন, আমরা ত্যাগীদের পাশে অতীতেও ছিলাম, এখনো আছি। আগামীদিনে কমিটিগুলো যেন সুন্দরভাবে হয়, ত্যাগী নেতাকর্মীরা যেন তাদের পরিচয় দিতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের জনগনের সাথ থাকতে বলেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করব।
প্রধান বক্তা মামুন মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন ভাবনা আজও দেশের মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। দুনিয়াতে যেমন তিনি সম্মান অর্জন করেছিলেন, পরকালেও তেমনি তিনি সম্মানিত থাকবেন আমরা সেই দোয়া করি। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন সেই ভিত্তির উপরেই দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। তিনি এদেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়ে গেছেন।আমরা সবাই মিলে সংবিধান রক্ষায় কাজ করব এটাই গনতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সবাই মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করব এটাই চেয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। আপনারা জানেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে এদেশে একনায়কতন্ত্র তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, বিশেষ আইনে দেশের সমস্ত প্রত্রিকার বন্ধ করে শুধু চারটি প্রত্রিকা ছিল, সেই জায়গা থেকে শহীদ জিয়া এদেশকে মুক্ত করেছিলেন। তাই আমরা সবাই রুহের মাগফিরাত কামনা করি। অনুষ্ঠানের আয়োজক মহানগর যুবদল নেতা কেএম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করছি। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের উদ্ভোদন করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খন টিপু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না, সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আক্তারুজ্জামান মৃধা।
পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি এবং গণতন্ত্রের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শতাধিক মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয় এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে আগত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ঔষধ বিতরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
Leave a Reply