স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে অবস্থিত বন্ধ সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড গার্মেন্টস দ্রুত চালু এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বাসদের সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কোবির এবং সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ শ্রমিক নেতারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাসদের সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া অতি দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় আমরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়, পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় এবং বিকেএমইএ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কাছ থেকে তারা অভিযোগ পেয়েছেন, কারখানা বিক্রির পর মালিক বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শরীফ বলেন, “শ্রমিকরা মেহনতি মানুষ। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষুধা ও আর্থিক সংকটে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় রাষ্ট্র, বিকেএমইএ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে।”
তিনি দ্রুত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বকেয়া বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেক শ্রমিক ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের দাবি, কারখানাটি পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের সকল পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
শ্রমিকরা আরও বলেন, সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড পুনরায় চালু হলে তাদের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে এবং পরিবারগুলোর আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে। এ জন্য মালিকপক্ষ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিকেএমইএ ও সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
Leave a Reply