সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণ ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর পুল চত্বরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।
এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার মাদক নির্মূল, মাদক স্পট চিহ্নিতকরণ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়া বাসায় ওঠানোর আগে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
সভা চলাকালে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পুলিশ সুপারের কাছে মাদক কারবারিদের নাম ও মাদক বিক্রির বিভিন্ন স্পটের তথ্য তুলে দেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।
মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের এমন উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
Leave a Reply