বিশেষ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম জোরদার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে নারায়ণগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮ নম্বর নবাব সলিমুল্লাহ রোডে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পাঠাগার ও গবেষণা সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রীনা আহমেদ।
সভায় বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায়, রাজনীতিবিদ হাফিজুল ইসলাম, সুজনের সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দীপু, সামাজিক সংগঠক গোবিন্দ সাহা, মুকাভিনয় শিল্পী জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ব্যবসায়ী শিশির চক্রবর্তী এবং মহিলা পরিষদের জেলা আন্দোলন সম্পাদক সাহানারা বেগম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের সহসভাপতি প্রীতিকণা দাস ও কৃষ্ণা ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন, সহসাধারণ সম্পাদক শোভা সাহা, সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা, সদস্য ফাহমিদা আজাদ, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ সুজাতা আফরোজ, রাশিদা বেগম ও লিপি সরকার।
সভায় সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ভূমিকা আরও কার্যকর করতে হবে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর সামাজিক প্রভাব ও ভয়াবহতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা এসব ঘটনার দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁরা আরও বলেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও পোশাকসংক্রান্ত সামাজিক বাধা নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতিকে যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, নানা পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনেক নারী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা কীভাবে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন তাঁরা।
বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে মহিলা পরিষদকে চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
Leave a Reply