নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন আল আমিন নগরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একই পরিবারের সদস্যসহ সাতজনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে এক কিশোরের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর আল আমিন নগর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিরোধের জেরে সন্ধ্যায় মামুন ও ইকবালসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ফয়সাল, রাসেল, হৃদয়, ইউনুস ও ইউসুফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা চাপাতি, ছুরি, রামদা ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। একপর্যায়ে ১৭ বছর বয়সী ইয়াছিনের মাথা লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইমন, ইকবাল, আলমগীর, উর্মী, মামুন, মিরাজ ও মিজানসহ অন্যদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজনের মাথা, হাত, আঙুল ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এজাহার অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজনকে অস্ত্রোপচার ও ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে।
মামলার বাদী অ্যামেলী বেগম জানান, গত ৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নম্বর ০৩, তারিখ ০৩/১০/২০২৬, দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩০৭, ৩২৬, ৩২৪, ৩২৩, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা প্রধান আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ পর্যন্ত চার নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে বাদী জানান।
তিনি বলেন, এমন গুরুতর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় আহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা হতাশ। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, মামলার এজাহারভুক্ত চার নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও অচিরেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর থেকে আহতদের পরিবার ও আল আমিন নগরের কয়েকজন বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, হামলার ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বাদীপক্ষের প্রশ্ন থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন আহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
Leave a Reply